ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১০ বছরের এক শিশুকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুলাল মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা দুলাল মিয়ার বাড়িঘর ভাঙচুরের অগ্নিসংযোগ করেছে। পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় বাজার থেকে দুলাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সকালে দুলাল ও তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী মজিদ মিয়ার বাড়িঘর ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
গ্রেফতার দুলাল মিয়া একই উপজেলার নামা মহিষতারা গ্রামের মন্নেছ আলীর ছেলে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
মামলার নথি, ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঈদের দিন (সোমবার) বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়াতে গেলে রাতে আর বাসায় ফেরেনি শিশুটি। পরদিন প্রতিবেশী আব্দুর রহমানের বাড়িতে পাওয়া যায় তাকে। পরে বাড়ির নারী সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে দুলাল মিয়ার দ্বারা রাতভর ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়।
এসময় ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের লোকজন দুলালকে ধরতে গেলে স্থানীয় মজিদ কৌশলে দুলালকে ভাগিয়ে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে শিশুকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মজিদ মিয়াকে উত্তেজিত জনতা মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মজিদকে আটক করে। পরদিন মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই শিশুর ভাই বাদী হয়ে দুলাল ও মজিদসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় বুধবার সকালে দুলাল ও মজিদের বাড়িঘরসহ দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আটক মজিদকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। দুলালকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন : :